close
বিষয়বস্তুতে চলুন

জিমি ওয়েলস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জিমি ওয়েলস
BERJAYA
২০১৯ সালে ওয়েলস
জন্ম
জিমি ডোনাল ওয়েলস

(1966-08-10) আগস্ট ১০, ১৯৬৬ (বয়স ৫৯)
অন্যান্য নামজিম্বো
মাতৃশিক্ষায়তন
পেশাইন্টারনেট উদ্যোক্তা, পূর্বে আর্থিক ব্যবসায়ী
পরিচিতির কারণউইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা
উপাধি
উত্তরসূরীফ্লোরেন্স ডেভোয়ার্ড
দাম্পত্য সঙ্গী
পুরস্কারনিচে দেখুন
ওয়েবসাইটjimmywales.com
স্বাক্ষর
BERJAYA

জিমি ডোনাল "জিম্বো" ওয়েলস (ইংরেজি: Jimmy Donal "Jimbo" Wales, /ˈɪmi ˈdnəl ˈwlz/; জন্ম ৭ আগস্ট ১৯৬৬[]) একজন মার্কিন ইন্টারনেট উদ্যোক্তা, যিনি অনলাইন অলাভজনক বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং লাভজনক ফ্যানডম ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির প্রবর্তক হিসাবে পরিচিত।

জিমি ওয়েলসের জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামার হান্টসভিলে। তিনি র‌্যানডলফ স্কুল নামে একটি প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি "ফিনান্স" শাখায় স্নাতকস্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক পড়াকালীন তিনি দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেন। পরে তিনি ফিনান্স ক্ষেত্রে চাকরি গ্রহণ করেন এবং বেশ কয়েক বছর শিকাগো ফিউচারস ও অপশনস ফার্মে রিসার্চ ডিরেক্টরের পদ অলংকৃত করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি দু'জন সহকারীর সহায়তায় বোমিস নামে একটি পুরুষদের বিনোদন ও প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়ভিত্তিক ওয়েবপোর্টাল প্রতিষ্ঠা করেন। এই ওয়েবসাইটটি থেকেই পরবর্তীকালে উদ্ভূত বিশ্বকোষ নুপিডিয়া (২০০০-২০০৩) এবং তার উত্তরসূরি উইকিপিডিয়ার প্রাথমিক অর্থসংস্থান হয়েছিল।

২০০১ সালে ল্যারি স্যাঙ্গার ও অন্যান্যদের সঙ্গে একযোগে তিনি উইকিপিডিয়া মুক্ত বিশ্বকোষ প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিশ্বকোষের ব্যাপ্তি ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ওয়েলস হয়ে ওঠেন প্রকল্পটির পৃষ্ঠপোষক ও মুখপাত্র। তাকে ঐতিহাসিকভাবে উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা বলা হলেও, তিনি নিজেকে উইকিপিডিয়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা ঘোষণা করে "সহ-" পদমর্যাদাটি অস্বীকার করেন।[][] ওয়েলস উইকিপিডিয়া-পরিচালনাকারী উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন নামে একটি অ-বাণিজ্যমুখী দাতব্য সংস্থার অছিপরিষদের সদস্য। তিনি পরিষদ-নিয়োজিত "সম্প্রদায়-প্রতিষ্ঠাতা" বা "কমিউনিটি ফাউন্ডার"-এর পদটিতে বৃত রয়েছেন। ২০০৪ সালে, তিনি ও অপর উইকিমিডিয়া অছি অ্যাঞ্জেলা বিজলে মিলে উইকিয়া নামে একটি বেসরকারি ওয়েব-হোস্টিং সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করেন।

ওয়েলস দু-বার বিবাহ করেছেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী ক্রিস্টিনার গর্ভে তার এক কন্যা আছে। ওয়েলস নিজেকে অবজেক্টিভিস্ট (বস্তুবাদী) এবং কিছু পরিমাণে উদারনীতিবাদী মনে করেন। তার সৃষ্ট উইকিপিডিয়া বিশ্বের বৃহত্তম বিশ্বকোষে পরিণত হলে টাইম পত্রিকা তাদের ২০০৬ সালের বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের নামের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে।[]

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

[সম্পাদনা]

জিমি ডোনাল ওয়েলস ১৯৬৬ সালের ৮ আগস্ট অ্যালাবামার হান্টসভিলে জন্মগ্রহণ করেন।[][] তার বাবা জিমি ডন ওয়েলস[] ছিলেন একটি মুদি দোকানের ব্যবস্থাপক, অন্যদিকে তার মা ডরিস অ্যান (জন্ম নাম ডাডলি) এবং দাদি এরমা 'হাউস অব লার্নিং' চালাতেন,[][১০] যা ছিল এক-কক্ষবিশিষ্ট বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের একটি ছোট বেসরকারি স্কুল। এখানেই ওয়েলস ও তার তিন ভাইবোন তাদের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।[] শৈশবে ওয়েলস বই পড়তে খুব পছন্দ করতেন।[] তার বয়স যখন তিন বছর, তখন তার মা দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিক্রি করা একজন বিক্রেতার কাছ থেকে একটি ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া কিনেছিলেন। ওয়ার্ল্ড বুক তাদের এনসাইক্লোপিডিয়া হালনাগাদ করার জন্য ক্রেতাদের কাছে স্টিকার পাঠাতো যাতে তারা সেগুলো পৃষ্ঠায় লাগাতে পারে এবং ওয়েলস তার কপিতে সেগুলো ব্যবহার করতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি মজা করে বলি যে ছোটবেলাতেই আমার মায়ের কেনা এনসাইক্লোপিডিয়ায় স্টিকার লাগানোর মাধ্যমে আমি তা সম্পাদনার কাজ শুরু করেছিলাম।"[১১][১২]

২০০৫ সালে ব্রায়ান ল্যাম্বের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ওয়েলস তার শৈশবের বেসরকারি বিদ্যালয়টিকে "মন্টেসরি-প্রভাবিত শিক্ষাদর্শন" হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে তিনি "ব্রিটানিকা এবং ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া নিবিষ্ট মনে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতেন"। ওয়েলসের শ্রেণিতে অন্য মাত্র চারজন শিশু ছিল, তাই বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসাথে বসানো হতো। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ওয়েলস বিদ্যালয়টির প্রতি সরকারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের গড়ে ওঠার পেছনে "রাষ্ট্রের ক্রমাগত হস্তক্ষেপ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং এক ধরনের চরম দাম্ভিক পরিদর্শকদের" প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অষ্টম শ্রেণির পর, ওয়েলস হান্টসভিলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়-প্রস্তুতিমূলক স্কুল রান্ডলফ স্কুলে ভর্তি হন[১৩][১৪] এবং ১৬ বছর বয়সে সেখান থেকে উত্তীর্ণ হন। তিনি বলেছিলেন যে স্কুলটি তার পরিবারের জন্য বেশ ব্যয়বহুল ছিল, তবে "আমার পরিবারে শিক্ষার প্রতি সবসময়ই গভীর অনুরাগ ছিল ... আপনারা জানেন, জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি একেবারে চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি সুন্দর জীবনের ভিত্তি হিসেবে সেটিকে প্রতিষ্ঠা করা।" তিনি ১৯৮৬ সালে অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থায়নে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি অবার্নে তার পড়াশোনা শুরু করেছিলেন।[১০] এরপর তিনি অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়নে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন, তবে পরে একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে সেটি ছেড়ে দেন এবং ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটনে অর্থায়নের পিএইচডি প্রোগ্রামে যুক্ত হন।অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ইন্টারনেটে ফ্যান্টাসি গেম খেলতেন এবং ওয়েবের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়।[১০] স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের সময় তিনি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করেছিলেন, কিন্তু পিএইচডির জন্য প্রয়োজনীয় ডক্টরাল গবেষণাপত্রটি লেখেননি; যার কারণ হিসেবে তিনি একঘেয়েমিকে দায়ী করেছেন।

মিডিয়ায় প্রকাশ ও সম্মাননা

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে জিমি ওয়েলস

[সম্পাদনা]

২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি উইকিমিডিয়া বাংলাদেশগ্রামীণফোনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত হয়ে ১২ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন জিমি ওয়েলস। রাজধানী ঢাকাস্থ হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি উইকিপিডিপিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তৃতা করেন, উইকিপিডিয়া গ্রামীণফোন আয়োজিত সম্পাদনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দশজন উইকিপিডিয়ানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিতর্ক ও সমালোচনা

[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগত দর্শন

[সম্পাদনা]

চিত্রসমূহ

[সম্পাদনা]

প্রকাশিত কাজ

[সম্পাদনা]
  1. ওয়েলসের জন্মতারিখের বিষয়ে সূত্রগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।[] তার জন্মতারিখ হিসেবে ৭ আগস্টের উল্লেখগুলো সঠিক নয়।[] তার জন্মসনদের একটি গরমিলের কারণে এটি ঘটেছিল, যার ফলে অন্যান্য সরকারি নথিপত্রও ভুল হয়েছিল। ওয়েলস পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছেন যে তার জন্মতারিখ ৮ আগস্ট।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Bergstein, Brian (২৫ মার্চ ২০০৭)। "Sanger says he co-started Wikipedia"MSNBC। Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০০৭The nascent Web encyclopedia Citizendium springs from Larry Sanger, a philosophy PhD who counts himself as a co-founder of Wikipedia, the site he now hopes to usurp. The claim does not seem particularly controversial—Sanger has long been cited as a co-founder. Yet the other founder, Jimmy Wales, is not happy about it.
  2. Olson, Parmy (১৮ অক্টোবর ২০০৬)। "A New Kid On The Wiki Block"Forbes। ৬ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০০৯
  3. 1 2 "Brain scan: The free-knowledge fundamentalist"The Economist। ৫ জুন ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০০৮
  4. 1 2 "জিমি ওয়েলস | বায়োগ্রাফি অ্যান্ড উইকিপিডিয়া ফাউন্ডার | ব্রিটানিকা মানি"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬
  5. গারসাইড, জুলিয়েট (২ আগস্ট ২০১৪)। "জিমি ওয়েলস: ডিজিটাল চ্যাম্পিয়ন অব ফ্রি স্পিচ"দ্য গার্ডিয়ান (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। ১০ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬
  6. রোগোওয়ে, মাইক (২৭ জুলাই ২০০৭)। "উইকিপিডিয়া অ্যান্ড ইটস ফাউন্ডার ডিজঅ্যাগ্রি অন হিজ বার্থ ডেট"দ্য অরেগোনিয়ান। ২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০২৬
  7. ওয়েকলার, অ্যাড্রিয়ান (১৬ নভেম্বর ২০১৭)। "'হোয়েন কেলিয়ান কনওয়ে স্পোক অব অল্টারনেটিভ ফ্যাক্টস, মাই হেড এক্সপ্লোডেড' - উইকিপিডিয়া ফাউন্ডার জিমি ওয়েলস"আইরিশ ইনডিপেনডেন্ট
  8. 1 2 Pink, Daniel H. (১৩ মার্চ ২০০৫)। "The Book Stops Here"Wired। খণ্ড ১৩ নং 3। ৪ মার্চ ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০০৮
  9. 1 2 3 উইলসন, ক্লেয়ার এম.। "জিমি ওয়েলস"এনসাইক্লোপিডিয়া অব অ্যালাবামা। ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭
  10. আইজ্যাকসন, ওয়াল্টার (২০১৪)। দ্য ইনোভেটরসসিমন অ্যান্ড শুস্টার। পৃ. ৫৩৪। আইএসবিএন ১-৪৭৬৭-০৮৬৯-X
  11. আইজ্যাকসন, ওয়াল্টার (১৯ অক্টোবর ২০১৪)। "ইউ ক্যান লুক ইট আপ: দ্য উইকিপিডিয়া স্টোরি"দ্য ডেইলি বিস্ট। ১৩ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭
  12. মুর, রেবেকা (৭ জানুয়ারি ২০১৩)। "জিমি ওয়েলস '৮৩: 'ইনফরমেশন ইভাঞ্জেলিস্ট' ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে", রান্ডলফ স্কুল। সংগৃহীত ১২ আগস্ট ২০১৪।
  13. "প্রোফাইল "। বিবিসি রেডিও ৪। ১৮ মার্চ ২০১২। সংগৃহীত ১২ আগস্ট ২০১৪।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]